ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন শুরু করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার পর রাজধানীতে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের মধ্যে আসন সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর মুক্তিযোদ্ধা হলে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণা আসে। বেলা সোয়া ২টার দিকে জামায়াতের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,
অনিবার্য কারণবশত আজ ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে আবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাদ দিয়ে ১০ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নেতারা জানান, ইসলামী আন্দোলনকে নিয়েই আসন সমঝোতার চেষ্টা চলছে, তবে কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা রয়ে গেছে।
গত কয়েকদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এর মধ্যেই ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল বেরিয়ে যেতে পারে—এমন গুঞ্জনও ছড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে।
বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন,
শেষ পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করব, যেন এই জোট অটুট থাকে। কিছু মতানৈক্য থাকলেও জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানান, ইসলামী আন্দোলনসহ সব দলের অংশগ্রহণে আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন,
কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা আছে। তারপরও আমরা আশাবাদী—রাতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
সব মিলিয়ে ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ১১ দলীয় জোট ভাঙছে না বলেই জোটের নেতারা আশা প্রকাশ করছেন। এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের—এই ঐক্য শেষ পর্যন্ত কতটা দৃঢ় থাকে, সেদিকেই।
