ফেনী শহরের মুক্ত বাজার এলাকায় স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বহনকারী জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের আগুন লাগানোর ঘটনা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) ভোরের দিকে সংঘটিত এ ঘটনাকে স্থানীয়রা পরিকল্পিত অপতৎপরতা হিসেবে দেখছেন।
ভোররাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যায়—মুখে মাস্ক পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত কেরোসিন ঢেলে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন লাগায়, এরপর দ্রুত পালিয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
জুলাই আন্দোলনের এ ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধা নাহিদুর রহমান এটিকে দেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে অপমান করার ঘৃণ্য চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,
জুলাই শহীদদের অসম্মান করতেই এ আগুন দেওয়া হয়েছে। আশপাশে সিসিটিভি রয়েছে—চাইলেই পুলিশ এদের শনাক্ত করতে পারবে।
এ ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনার দায় নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন,
এ ধরনের নাশকতা এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। যারা এ ঘটনার পেছনে আছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
আরেকজন নেতার দাবি—সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় যেসব সহিংসতা ঘটছে তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এগুলো একই সূত্রে গাঁথা। তার ভাষায়,
যারা বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা চালাচ্ছে, তারাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
এদিকে ফেনী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
ফুটেজ হাতে পেলেই আমরা সময়, ব্যক্তি ও ঘটনার ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয় মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অবমাননাকারী ব্যক্তিদের দ্রুত ও সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানিয়েছে।
