সন্দ্বীপ উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নে দলিল লেখক আবু হাসান মাসুমের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত প্রায় এক বছর ধরে গাছুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে আবু হাসান মাসুমের (দলিল লেখক) তত্বাবধানে একটি কৃষি প্রকল্পের কাজ চলছিল। প্রকল্পের কৃষি/নাল জমিটি (মৌজা ও জে. এল. নং থাক গাছুয়া-৫৮, খতিয়ান নং ৮৯৫, দাগ নং ২৬০১/৩) চট্টগ্রাম জেলা সন্দ্বীপ উপজেলার কাটঘর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধিনে পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাদিজা বেগম (পিতাঃ মোহাম্মদ জহির) সরকারি নিয়ম মেনে বৈধভাবে লিজ নেয়। অভিযোগ রয়েছে যে আব্দুর রহিম ও তার অনুসারী স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় প্রকল্পের কাজ বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। চাপ ও হুমকি দামকির কারণে কয়েক দফায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাকে বিরত থাকার অনুরোধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর অনেক লিজ নেওয়া কৃষি জমি ও খামার দখল করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। অভিযোগ আনা বিএনপি নেতা রহিমের কয়েক শতক জমি সরকারি ভাবে লিজ নেওয়া আছে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কিছু জমি লিজ নিলেও ৫ই আগষ্টের পর সে জমির বিভিন্ন অংশ আরো বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি লেখক মাসুমের প্রকল্পের পূর্বের পাশেও বিস্তৃত বেশ শতক জমি তার অবৈধ দখলে আছে (পরবর্তী অনুসন্ধান রিপোর্টে বিস্তারিত থাকছে), যা ৫ই আগষ্টের আগে পরে দখল করা হয়েছে এবং ঐ সমস্ত জমিতে রহিম চাষাবাদও করছেন।
ঘটনার সূত্র ধরে জানা যায়, গতকাল ৫ই এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) সন্ধ্যায় পুনরায় চালু হওয়া প্রকল্পের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে আবু হাসান মাসুমের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিমের লোকজন। যে হামলার প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে রহিম নিজেই। তার সাথে হামলাকারীদের মধ্যে ছিল আলমগীর, মেহেরাজ, মেহেদী, সোহাগ ও আজাদ সহ আরো বেশ কয়েকজন কতিপয় ব্যক্তি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন,
কয়েক দফায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম। বিভিন্ন সময় রহিম তার লোকজন মাধ্যমে হমকি দামকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিলেও পরবর্তীতে বুঝাপড়ার মধ্য দিয়ে পুনরায় কাজ চলছিল। কিন্তু এভাবে জনসম্মুখে রহিম কারো উপর হামলা করবে সেটা মোটেও চিন্তার মধ্যে ছিল না। হামলার শুরুটা রহিম শুরু করেছিল। সে প্রথমে মাসুমের গায়ের জামার কলার ধরে কিল ঘুষি দিতে থাকে। পরবর্তীতে তার সাথে থাকা লোকজন হামলা আরো তীব্র থেকে তীব্রতর করে।
ভুক্তভোগী দলিল লেখক মাসুম ইনসাইড টিভিকে বলেন,
৫ই আগষ্টের পর রহিম ইউনিয়ন বিএনপির পদ ব্যবহার করে খুব বেপরোয়া আচরণ করছে। স্থানীয় বাড়ি কেন্দ্রীক বলয় তৈরি করে নিরীহ মানুষদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে। সে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে বিষয়টি সমঝোতা করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছিল। পাশের ইউনিয়নের স্থানীয় এক বিএনপি নেতাও পরামর্শ দিয়েছিল পুলাপাইন পালতে কিছু খরচ পাতির প্রয়োজন হয়। যাতে তাকে (রহিমকে) কিছু টাকা পয়সা দিয়ে সমঝোতা করি। আমি আরেকজনের লিজ নেওয়া জমিতে কৃষি প্রকল্প তত্ত্বাবধান করছি। তাকে চাঁদা না দেওয়াতে সে তার দলবল নিয়ে আমার উপর হামলা চালায়। এমনকি আমি যাতে থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা না করি সে বিষয়ে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করছে, হুমকি দামকি দিচ্ছে। আমি এখন জীবন নাশের শঙ্কায় আছি।
এই বিষয়ে জানতে চেয়ে ইনসাইড টিভির অনুসন্ধান টিম আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করে। রহিম বলেন,
মাছুম আমার বেলাল নামে এক কর্মীর তোলা জমি দখল করে আছে। সে (মাসুম) তার ৬৩ কড়া সরকারি লিজ নেওয়া জমি কথা বলে, ৭৫ কড়া পুরোটাই প্রকল্পের মধ্যে নিয়ে নিয়েছে। আমি তাকে বারবার সাবধান করেছি। সমাধানের জন্য বসতে বলেছি। উল্টো সে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে আমার সাথে সমঝোতা করতে চেয়েছিল।
দেশে প্রচলিত আইন আদালত থাকতে কারো প্রতি এভাবে হামলা করা যায় কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
আমি তার গায়ে কোনো হাত তুলিনি। পোলাপাইনের সাথে একটু আধটুকু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এর বাহিরে তো কিছু হয়নি। আমরা একই এলাকার মানুষ। বিষয়টি তেমন গুরুতর কিছু নয়।
স্থানীয়রা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তরা সন্দ্বীপ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
