ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উত্তেজনা: অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর

সিদ্দিকুর রহমান, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও সাম্প্রতিক মামলার প্রতিবাদকে ঘিরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা পরিষদ, ভাঙ্গা থানা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এ ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা ভাঙ্গা অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং নির্বাচন কমিশনের অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ও অন্তত আটটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জনতার ধাওয়ার মুখে পড়ে মডেল মসজিদে আশ্রয় নেন। বিক্ষোভকারীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া এপিবিএন সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ রোকিবুজ্জামান বলেন,

বিক্ষোভকারীরা থানায় ঘেরাও দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইউএনও ও নির্বাচন অফিসে আগুন দিয়ে ভাঙচুরও করেছে। কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তারা নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। যদিও কারও ওপর সরাসরি হামলা হয়নি, তবে ইউএনও কার্যালয় ও নির্বাচন অফিস ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অবরোধ শুরু করে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

এর আগে, রবিবার রাতে ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০–১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ম. ম. সিদ্দিক মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *