গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রীড়া নিষেধাজ্ঞার দাবি স্পেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

2 Min Read

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলা চলতে থাকলে তাদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলো থেকে বহিষ্কার করা উচিত। বিষয়টি তিনি রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা করে ব্যাখ্যা দেন।

২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর যেভাবে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তার সমাজতান্ত্রিক দলের এক সভায় বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন

ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়াকে কেন বহিষ্কার করা হলো, অথচ গাজায় গণহত্যা চালানোর পরও ইসরায়েল কেন বহাল তবিয়তে অংশ নিচ্ছে?

এরই মধ্যে স্পেনে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিবাদ তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ভুয়েল্তা আ এস্পানিয়া সাইক্লিং প্রতিযোগিতার শেষ ধাপেও প্রো-প্যালেস্টাইন কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। তারা ইসরায়েলি দলের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২২ জন আহত হন এবং দু’জনকে আটক করা হয়।

এদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার সানচেজের বক্তব্যকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী ও মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, ইসরায়েল প্রায়শই ‘অ্যান্টি-সেমিটিজম’ এর অভিযোগ ব্যবহার করে তাদের নীতির সমালোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এর আগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে তেলআবিব একই অভিযোগ তোলে।

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি স্পেন প্রতিরক্ষা বাণিজ্যেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে। জানা গেছে, প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ইউরোর একটি অস্ত্রচুক্তি বাতিল করেছে মাদ্রিদ। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের তৈরি রকেট সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। এর আগে রাফায়েলের সঙ্গেও আরেকটি বড় চুক্তি স্থগিত করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায় এক বিলিয়ন ইউরোর ইসরায়েলি অস্ত্রচুক্তি বাতিল করেছে স্পেন।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলে অস্ত্রবাহী জাহাজ ও বিমানকে স্পেনের আকাশসীমা ও বন্দরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের আমদানি বন্ধ, এবং গাজার মানবিক ত্রাণে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ। এর মাধ্যমে স্পেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে চাইছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *