গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও রক্তক্ষয়: নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

2 Min Read

গাজায় যুদ্ধবিরতির মাঝেই ফের রক্ত ঝরল। সাংবাদিক সালেহ আলজাফারাওয়ি নিহত হয়েছেন গুলিবিদ্ধ হয়ে—এই সংবাদ উপত্যকার ভেতর নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়েছে। কয়েক দিনের নীরবতার পরই আবারও সহিংসতার ছায়া নেমে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত এ অঞ্চলে।

২৮ বছর বয়সী সালেহ ছিলেন তরুণ, সাহসী ও জনমানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি গাজার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতেন ক্যামেরার লেন্সে—ধ্বংসস্তূপের মাঝে মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই, শিশুর কান্না আর অবরুদ্ধ জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠত তার ভিডিওতে। কিন্তু শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রোববার সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায় গাজা নগরীর সাবরা এলাকায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবরা এলাকায় হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী ও দুগমুশ গোত্রের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন সালেহ। তিনি সেই সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, ‘প্রেস’ লেখা জ্যাকেট পরা অবস্থায় তার নিথর দেহ পড়ে আছে একটি ট্রাকের পেছনে।

এই ঘটনার পর সাংবাদিক সমাজ ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যদি সংবাদকর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সত্যের গল্প কে বলবে?

গাজার হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (১১ই অক্টোবর) শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে মোট ২৭ জন নিহত হয়েছেন—যার মধ্যে হামাসের আটজন যোদ্ধা ও দুগমুশ গোত্রের ১৯ জন সদস্য রয়েছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সহিংসতা শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং গোত্রীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বেরও বহিঃপ্রকাশ।

দুগমুশ গাজা অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোত্রগুলোর একটি। বহু বছর ধরে হামাসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক টানাপোড়েনের। আগেও একাধিকবার উভয় পক্ষের সংঘর্ষে হতাহত হয়েছে।

সালেহ আলজাফারাওয়ির মৃত্যু তাই কেবল একজন সাংবাদিকের নয়, বরং গাজার স্বাধীন কণ্ঠস্বরের আরেকটি অবসান। তার ক্যামেরা আর ধরা দেবে না ধ্বংসের চিত্র, কিন্তু তার তোলা ছবিগুলো হয়তো আজীবন মনে করিয়ে দেবে—যুদ্ধবিরতিতেও গাজায় শান্তি এখনো দূরের স্বপ্ন।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *