দীর্ঘদিনের দাবিতে উপেক্ষিত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) থেকে সারাদেশে পূর্ণ কর্মবিরতিতে গেছেন। রবিবার পুলিশের লাঠিচার্জ ও বাধা সত্ত্বেও রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে তারা ঘোষণা দেন—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো শ্রেণি কার্যক্রম চলবে না।
গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ শিক্ষক সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে রাতভর খোলা আকাশের নিচে শহীদ মিনারে অবস্থান করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষকরা। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আজ থেকে দেশজুড়ে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।
তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো—
১. বাড়ি ভাড়া হিসেবে মূল বেতনের ২০ শতাংশ ভাতা প্রদান,
২. ন্যূনতম বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ,
৩. শিক্ষক মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক নেতা দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন,
শিক্ষকদের ওপর হামলা লজ্জাজনক। আমরা কোনো সংঘাত চাই না, কিন্তু সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার চাই। যতদিন দাবি পূরণ না হবে, ততদিন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ক্লাস হবে না।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, বেসরকারি মাদরাসা শিক্ষকেরা ন্যূনতম ৯ হাজার ৩০০ টাকা ও স্কুলের শিক্ষকরা ১২ হাজার ৫০০ টাকায় জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমান বাজারে এই বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব বলে তারা মন্তব্য করেন।
কর্মবিরতিতে থাকা এক শিক্ষক বলেন,
আমরা শিক্ষাদান করি, ভবিষ্যৎ গড়ি, অথচ নিজেরাই অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে আছি। এটা শুধু বেতন আন্দোলন নয়—এটা টিকে থাকার লড়াই।
শিক্ষকদের দাবি নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদেরই যদি ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত না হয়, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার ভরসা কোথায়?
