বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট তাদের দাবি আদায়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। দাবি পূরণ না হলে “মার্চ টু যমুনা” কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির সময় তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরারের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন,
বৈঠকের নামে প্রহসন হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের দাবির বিষয়ে অনড় থেকেছেন। আমরা চাই—অন্তত ১০ শতাংশ এখন এবং বাকি ১০ শতাংশ পরবর্তী বাজেটে বাড়ানো হোক, সেটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, বাজেটের আগেই একাধিকবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বাড়িভাড়া, টিফিন ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ১১ আগস্ট এনএসআই-এর পক্ষ থেকে ফোন করে ন্যূনতম বাড়িভাড়া ২ হাজার টাকা করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা বাড়িভাড়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তার মতে,
শিক্ষকরা ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া চান, কিন্তু সরকারের সামর্থ্য অনুসারে আপাতত ৫ শতাংশই সুপারিশ করা হচ্ছে। আগামী বেতন কমিশনে শিক্ষকদের জন্য আরও উন্নত কাঠামো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বর্তমানে টানা পঞ্চম দিনের মতো রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তারা তিনটি মূল দাবিতে আন্দোলন করছেন—
১. বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ করা,
২. চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা নির্ধারণ,
৩. কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করা।
একইসঙ্গে সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি চলছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, আর বিকেল ৫টার মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন।
