আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা ২০২৫ শুধু প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্য নয়, শিশুদের জন্যও হয়ে উঠেছে এক আনন্দমুখর আয়োজন। শিশুতোষ বই, সিরিজ, ফ্ল্যাশকার্ড, বিজ্ঞান বাক্স থেকে শুরু করে রয়েছে আলাদা কিডস প্লে-জোন—সব মিলিয়ে বইমেলা যেন শিশুদের জন্য এক ভিন্নমাত্রার শিক্ষামূলক উৎসব।
মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, শিশুদের জন্য সাজানো স্টলগুলোতে ভিড় বাড়ছে প্রতিদিনই। প্রকাশকরা একে একে হাজির করেছেন আকর্ষণীয় সিরিজ ও শিক্ষণীয় বই।
🔹 সুকুন পাবলিশিং এনেছে তিনটি বিশেষ সিরিজ— আদব-আখলাকের গল্প, মসজিদ নিয়ে গল্প এবং আল্লাহর ১২ নামের গল্প। সঙ্গে রয়েছে ২৪ কার্ডের সিরাতভিত্তিক ফ্ল্যাশকার্ড, যার মাধ্যমে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নবীজী (সা.) ও ইসলামী শিক্ষার ধারণা পেতে পারবে।
🔹 নাশাত পাবলিকেশন শিশুদের জন্য প্রকাশ করেছে ২৪টি বইয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ, যার লক্ষ্য শিশুদের ইসলামী সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী করা।
🔹 টুন টুন পাবলিকেশন এনেছে চার স্তরের বাংলা ও ইংরেজি সিরিজ। বিশেষ করে সহানুভূতি সিরিজ ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। যদিও অনেকে দাম কিছুটা বেশি মনে করছেন, তবুও বিক্রেতাদের দাবি—“কোয়ালিটিই আমাদের মূল শক্তি।”
🔹 আতফাল হাজির হয়েছে বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে নয়টি সিরিজ এবং বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি বিশেষ সিরিজসহ আরও অনেক বই নিয়ে। ক্রেতাদের মতে, শিশুতোষ ইসলামী বইয়ের ঘাটতি পূরণ করছে তাদের প্রকাশনা।
🔹 ফিউচার উম্মাহ বিডি এনেছে পাঁচটি সিরিজ ও প্রায় ৩০টি বই। তাদের লক্ষ্য ইসলামের জ্ঞানসম্পন্ন এক নতুন প্রজন্ম তৈরি করা।
🔹 শিশুদের হাতে-কলমে শেখার জন্য রয়েছে ১৭টি বিজ্ঞান বাক্স, যেমন আলোর ঝলক, চুম্বকের চমক, তড়িৎ তাণ্ডব ইত্যাদি। এতে বাচ্চারা শুধু বই পড়ছে না, বরং শিখছে বানানো ও আবিষ্কারের কৌশলও।
🔹 লিটল উম্মাহ এনেছে নয়টি সিরিজ, আর শিশু কানন সাজিয়েছে প্রায় ২০০ বই ও পাঁচটি সিরিজ। অভিভাবকদের মতে, তাদের বইগুলো শিশুদের শিক্ষণীয় ও মানসম্মত পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক।
সবশেষে, শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে বিশেষ কিডস প্লে-জোন। সেখানে শিশুরা খেলছে, হাসছে, নতুন বন্ধু তৈরি করছে। ফলে বইমেলাটি শুধু কেনাবেচার বাজার নয়, হয়ে উঠেছে শিক্ষা ও আনন্দের মিলনমেলা।
মেলা শুরু হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং চলবে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত (ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা) দর্শনার্থীরা অংশ নিতে পারবেন এই আয়োজনে।
