৭ ঘণ্টা পর পানির নিচ থেকে বাস টেনে তোলা শুরু, মিলছে নিখোঁজদের চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি

2 Min Read

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি দীর্ঘ সময় পর অবশেষে টেনে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেনের সাহায্যে বাসটির সামনের অংশ ইতোমধ্যে পানির উপরে তোলা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে ধীরে ধীরে বাসটি নদী থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারীরা জানান, বাসটির দরজা ভেঙে গেছে এবং ভেতর থেকে স্কুল ব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী ভেসে উঠতে দেখা গেছে—যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরছে। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এর আগে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি পদ্মায় পড়ে যায়। বাসটিতে আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ৭ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

এ পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ধারণা করছেন, এখনো প্রায় ৪০ জন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ একাধিক ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধারকারী জাহাজ ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *