রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকেল ৪টায়, আর বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয় ফলাফল গণনা।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮,৯০১ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৯ শতাংশ নারী ও ৬১ শতাংশ পুরুষ। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ৯টি একাডেমিক ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে, যেখানে স্থাপন করা হয় ৯৯০টি বুথ। নির্বাচনে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী কেন্দ্রীয় রাকসুর ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৮ জন।
ভোট পরিচালনায় দায়িত্বে ছিলেন ২১২ জন শিক্ষক—এর মধ্যে ১৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার ও বাকিরা সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য, ছয় প্লাটুন বিজিবি ও ১২ প্লাটুন র্যাব। প্রতিটি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা, এবং ব্যবহৃত হয়েছে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স।
ভিপি পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে চার প্রার্থীর মধ্যে—দুই জন বড় সংগঠন-সমর্থিত প্রার্থী এবং বাম ও ছাত্র অধিকার প্যানেলের প্রার্থীসহ। জিএস ও এজিএস পদেও ত্রিমুখী লড়াই দেখা গেছে। প্রার্থীদের প্রচারণা ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণে কোনো বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিকাল ৫টা থেকে ফলাফল গণনা শুরু হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে, যেখানে ১৭টি কেন্দ্রের ভোট গণনা একযোগে চলছে। কমিশনের ধারণা, রাতের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, প্রতিটি ধাপে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত রাখার জন্য বিশেষ নজরদারি ছিল। স্থানীয় ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সামগ্রিকভাবে একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
রাতেই জানা যাবে—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের মুখ কারা হতে যাচ্ছেন।
