৩৪ বছরের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। কিন্তু ভোটের উত্তাপ যেন ভোটগ্রহণের পরও থামছে না। ভোট শেষ, কিন্তু ফলাফল এখনও অধরা—আর সেই অপেক্ষা যেন রূপ নিচ্ছে এক অনিশ্চয়তার নাটকে।
১১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা থেকে শুরু হয় ভোট গণনা। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতেও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে গুঞ্জন, উদ্বেগ, আর প্রশ্ন—“কী হচ্ছে গণনায়?”
এই মুহূর্তে সামনে আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান। সংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
ভোট গণনা বন্ধ হয়নি। সহকর্মীর মৃত্যুর কারণে কিছুক্ষণ স্থগিত ছিল। তবে এখন গতি বাড়াতে আরও লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাতের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে।
প্রক্টর জাকির আহমেদ জানান, OMR বাতিল করে ম্যানুয়াল গণনা চলছে। নির্ভুল ফলাফলের জন্য সময় বেশি লাগছে। আর এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে উত্তেজনার মাত্রা।
এদিকে, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সিনেট ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন রয়েছে এক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। যেন কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১,৮৪৩ জন, যার মধ্যে প্রায় ৮,০০০ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন। তবে নানা অভিযোগ তুলে ছাত্রদলসহ পাঁচটি প্যানেল ও পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেছেন।
এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের নয়—এটি একটি প্রজন্মের প্রত্যাশা, একটি ক্যাম্পাসের আত্মপরিচয়ের পুনরুদ্ধার। ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় এখন গোটা বিশ্ববিদ্যালয়, আর সেই অপেক্ষা যেন এক নিঃশ্বাসে থেমে থাকা সময়।
