যে বাড়িতে বিয়ের আনন্দে মুখর হওয়ার কথা ছিল, সেই বাড়িতে আজ চলছে কান্নার রোল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতা—মাত্র ৩০ বছর বয়সেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছিল, পরিবার অপেক্ষায় ছিল মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর জাকজমক আয়োজনের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
মৌমিতা ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রুমি খন্দকার এবং পাবনা কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক লুৎফুন্নাহার পলির একমাত্র সন্তান। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী, ২০০৯ সালে পাবনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১১ সালে পাবনা মহিলা কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ২০২১ সালে শিক্ষকতায় যোগ দেন।
নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে রাত ১২টার দিকে তিনি শিক্ষক কোয়ার্টারে ফেরেন। পরদিন সকালে ভোট গণনার কক্ষে যাওয়ার সময় দরজার সামনেই পড়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। বাবা রুমি খন্দকার জানান,
গতকাল ভোটগ্রহণের পর ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। নির্বাচন নিয়ে খুব খুশি ছিল।
মৌমিতার মরদেহ এখন পাবনার পথে। বাদ এশা কাচারীপাড়া মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, এরপর আরিফপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
একজন তরুণ, প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষকের এমন অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শোকস্তব্ধ পাবনা। যে মেয়েকে বিদায় জানাতে চেয়েছিল পরিবার ফুলে-আলোয়, তাকে বিদায় জানাতে হচ্ছে চোখের জলে।
