সারা দেশে জনগণের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বহুল আলোচিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ভোটগ্রহণ শেষে জোট নেতারা ফলাফলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন,
সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাকে ব্যর্থ করে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আজকের ভোটকে সফল করেছে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করলেই নির্বাচন উৎসবমুখর হয়।
একটি ‘অসাধারণ’ নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশবাসী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ফলাফল প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হবে এবং সরকার গঠন করবে—এ ব্যাপারে তারা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।
এর আগে বিকেলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন। তিনি নির্দেশনা দেন, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ যেন ভোটকেন্দ্র ত্যাগ না করেন।
রাতের আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, মহান আল্লাহ বিজয় দান করলে মিছিল-স্লোগান নয়, বরং সিজদায় শোকর আদায় করা হবে এবং জাতির সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করা হবে।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ শেষে দেশজুড়ে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নির্বাচন স্থগিত থাকায় ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ৫০টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী (১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় ও ২৭৩ জন স্বতন্ত্র) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার পক্ষ থেকেও নির্বাচন ঘিরে পৃথক প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফল চূড়ান্ত হচ্ছে না।
