গাজীপুরের চান্দনা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক জোরালো বার্তা দিয়েছেন—বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। তাই সময় এসেছে নতুন সংবিধান প্রণয়নের, যা শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা সুরক্ষিত করবে।
সমাবেশে পরিবহন, গার্মেন্টস, হকারসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের উপস্থিতিতে আখতার হোসেন বলেন,
২৪-এর অভ্যুত্থানের পরেও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়নি—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং বলেন, “নীতি নির্ধারণে শ্রমিকের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারকে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে গার্মেন্টস মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এই বক্তব্যে উঠে আসে একটি স্পষ্ট বার্তা—শ্রমিকের অধিকার শুধু নীতিগত নয়, এটি একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি শ্রমিক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী মাজহারুল ইসলাম ফকির। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান, কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মুহিম, রিয়াজ মোর্শেদ, বশির আহম্মেদ, শ্রমিক নেতা আরমান হোসেনসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
এই সমাবেশ শুধু একটি দাবি নয়, বরং একটি আন্দোলনের সূচনা—যেখানে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে শ্রমিকের অধিকারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হলো। গাজীপুরের মাঠে উচ্চারিত এই কণ্ঠস্বর এখন জাতীয় সংলাপের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
