হতাশায় ভুগছিলেন এনসিপি নেত্রী রুমী, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা

ফরহাদ হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধি

2 Min Read

রাজধানীর জিগাতলা কাঁচাবাজার এলাকার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাতারা রুমী (৩০)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, দীর্ঘদিনের হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জিগাতলার জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রুমীর মরদেহ দেখতে পায়।

রুমী এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি থানার যুগ্ম সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর ঘোষিত সমন্বয় কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা মো. জাকির হোসেন এবং মায়ের নাম নুরজাহান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, রুমী ধানমন্ডির একটি হাসপাতাল থেকে নার্সিংয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেছেন। তবে ঘটনার সময় তিনি কোথায় কর্মরত ছিলেন, নাকি বেকার ছিলেন—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, রুমীর দুটি বিয়ে হয়েছিল এবং উভয় সংসারই ভেঙে যায়। দুই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে, যারা বর্তমানে তাদের বাবার কাছে থাকে। পারিবারিক ও সাংসারিক নানা জটিলতা নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্বজনদের ধারণা।

পরিবারের একজন সদস্য জানান, ঘটনার আগের রাতে রুমী ওই কক্ষে একাই ছিলেন। ভোরে গৃহকর্মী ফ্ল্যাটের দরজা খোলা ও ভেতরে বাতি জ্বলতে দেখে উঁকি দিলে রুমীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর আশপাশের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।

স্বজনরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *