দেশে ফিরে নিজের ব্যবহৃত মুঠোফোন বিক্রির জন্য ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী। ক্রেতা হিসেবে যোগাযোগ করেন এক ব্যক্তি, দাম ঠিক হয় ৭৮ হাজার টাকা। সব কিছু ঠিকঠাকই মনে হচ্ছিল, কিন্তু টাকা হাতে পেয়ে বিক্রেতা পরে বুঝতে পারেন—পুরোটাই জাল নোট।
পাঁচ বছর আগের সেই প্রতারণার ঘটনায় আদালত এবার রায় দিয়েছেন। জাল টাকা ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মহিউদ্দিন আল আজাদ প্রকাশ মহিন খান (৩০)। আদালত তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর ঘটনাটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রোপলিটন স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফাহিম মোর্শেদ দেশে বেড়াতে এসে নিজের ব্যবহৃত মুঠোফোন বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। ওই পোস্ট দেখে যোগাযোগ করেন মহিউদ্দিন। ফোন কেনার সময় তিনি ৭৮টি এক হাজার টাকার নোট দেন। কিন্তু পরে জানা যায়, নোটগুলো জাল।
ফাহিম মোর্শেদ বিদেশে ফিরে যাওয়ার পর তার মামা নিজামুদ্দিন প্রতারণার অভিযোগে থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মহিউদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মামলার বিচার শুরু হয়। ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মহিউদ্দিনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি অনুপস্থিত ছিলেন। জামিনে গিয়ে তিনি পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছে। এ ঘটনায় আরেক আসামি মো. জাকির শেখকে আদালত খালাস দিয়েছেন।
জাল টাকার মামলাগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলে। এই মামলার রায় বিশেষ বার্তা দেয়—প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কেউ আইন থেকে রেহাই পাবে না।
