চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ফেসবুকে রাজনৈতিক নেতাদের বিকৃত ছবি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা গ্রাম ও বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন জামায়াতের এক নেতা বৃহস্পতিবার রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিকৃত ছবি পোস্ট করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। যদিও পরে ওই নেতা পোস্টটি মুছে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন, তবুও উত্তেজনা থামেনি।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হলেও বৈঠকের আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে যুবদলের দুই সাবেক নেতা ওই জামায়াত নেতাকে জিজ্ঞেস করতে গেলে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং মুহূর্তেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় যুবদল নেতাদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অতর্কিতভাবে জামায়াত কর্মীরা হামলা চালায়। এতে বিএনপির অন্তত ১৫ জন আহত হন।
অন্যদিকে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, পোস্ট ডিলিট ও দুঃখ প্রকাশের পরও বিএনপি বৈঠকের আগেই তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা দাবি করেন, বিএনপি অন্য গ্রাম থেকে ভাড়া করা লোক এনে মব তৈরি করেছিল। সংঘর্ষে জামায়াতেরও অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহত বিএনপি কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন: নেছার আহমেদ চৌধুরী, সাইফুল মিজি, আনোয়ার হোসেন সর্দার, কামাল হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, কুদ্দুস সর্দার, মহসিন হোসেন তুষার, রাসেল ভূঁইয়া, লিটন হোসেন, আলামিন হোসেনসহ আরও অনেকে। অপরদিকে আহত জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল মোতালেব, ইলিয়াস হোসেন, ফরিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, ফয়সাল হোসেন, রাশেদ হোসেন, সজিব হোসেন, শরীফ পাটওয়ারীসহ আরও অনেকে।
সংঘর্ষ চলাকালে পালিশারা বাজারের দোকানপাট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত হলেও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফেসবুক পোস্টের মতো ক্ষুদ্র একটি বিষয় কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, হাজীগঞ্জের এই ঘটনা তার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ।
