টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ুদার আরিফের একচ্ছত্র প্রভাব ও দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও জমি সংক্রান্ত তথ্য দালালদের কাছে বিক্রি করে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে আরিফ তার বাবা অফিস সহকারী মুসলিম উদ্দিনের সহযোগিতায় ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিম্নপদের কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি ধীরে ধীরে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও জমি সংক্রান্ত কাজে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। আবার ঘুষ দিলেও কাজ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে ভূমি নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, খাজনা সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
একাধিক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
অফিসে গেলে প্রথমেই ঝাড়ুদার আরিফের লোকদের কাছে যেতে হয়। টাকা না দিলে কাজ আটকে রাখা হয়।
অফিস সূত্র জানায়, ঝাড়ুদার আরিফের মাসিক বেতন মাত্র ৩ হাজার টাকা। অথচ তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন এবং একটি আলিশান বাড়ির মালিক বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া অফিসারের অনুপস্থিতিতে একটি সুবিধাভোগী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে, যারা ভূমি সংক্রান্ত ফাইল আটকে রেখে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ঝাড়ুদার আরিফের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি,
সরকার যদি নিয়মিত অফিসার নিয়োগ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত না করে, তাহলে এমন অনিয়ম বন্ধ হবে না। ঝাড়ুদারের দৌরাত্ম্য থেকে মানুষ মুক্তি চায়।
তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অনিয়ম তদন্তে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ জরুরি। তা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
