সন্দ্বীপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে জনরোষ, কর্মকর্তার অপসারণ দাবি

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম), প্রতিনিধি

3 Min Read

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানস বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যু, ঘুষ বাণিজ্য, দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সন্দ্বীপের জনগন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অপসারণ ও বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি রেশমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা মামলা এক
নতুন মোড় নেয়। অভিযুক্ত মহিন উদ্দিনের স্ত্রী আয়েশা আক্তার নিশা, বাদী রেশমা আক্তারের শশুরের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলাকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ডা. মানস বিশ্বাস আয়েশা আক্তার নিশার হাতে একটি মিথ্যা মেডিকেল সার্টিফিকেট তুলে দেন।

এই জাল সনদের ভিত্তিতে আদালত বিভ্রান্ত হয় এবং রেশমা আক্তারের নিরীহ শ্বশুর মো: হাশেম আলী—অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের শিকার হন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই দাবি তুলেছেন, ডা. মানস বিশ্বাসের ইস্যুকৃত সার্টিফিকেটের কারণে ইতিমধ্যে অনেক মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে ডা. মানস বিশ্বাস নানা ধরনের অনিয়মে জড়িত আছেন। তার কাছ থেকে সার্টিফিকেট বা সত্যায়ন নিতে হলে দিতে হয় ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ। এমনকি মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৪ জুন এক স্কুল প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মারা গেলে, তাঁর পেনশন সংক্রান্ত কাগজের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ ইস্যু করতে ডা. মানস বিশ্বাস ১ হাজার টাকা ঘুষ নেন—যা মানবিকতার চরম অবমাননা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুরবস্থা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে এভিয়েশন নিউজ। সেখানে উঠে আসে— স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, অকেজো চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসকদের নিয়মিত অনুপস্থিতি, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আধিপত্য, সরকারি ওষুধ সংকট, টেন্ডার বাণিজ্যে অনিয়মসহ একাধিক গুরুতর বিষয়।

উক্ত প্রতিবেদনের অনুসন্ধান পরিচালনা করেছিলেন এভিয়েশন নিউজের তৎকালীন সহ-সম্পাদক এবং বর্তমান ইনসাইড টিভির প্রধান জার্মান প্রবাসী সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বিপ্লব।

এই ধারাবাহিক অনিয়মের কারণে সম্প্রতি স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন। ফেসবুকসহ ও বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া গ্রুপে ডা. মানস বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসংখ্য পোস্ট, মন্তব্য ও প্রতিবাদ দেখা গেছে। বিভিন্ন সময় এই কর্মকর্তার অনিয়মের শিকার ভুক্তভোগীরা প্রকাশ করছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা।
অনেকেই লিখেছেন, যেখানে চিকিৎসা পাওয়া কথা, সেখানে ঘুষের বাণিজ্য চলছে—এটা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি।

ক্ষুব্ধ দ্বীপবাসীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনে নামবেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচিও দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
সাধারণ মানুষের দাবি, ডা. মানস বিশ্বাসকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করে একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে—যাতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *