চলচ্চিত্রের গল্পকেও হার মানিয়েছে যশোরে ঘটে যাওয়া এক বাস্তব ঘটনা। চাঁদাবাজি ও শ্লীলতাহানির মামলায় মামার পরিবর্তে আদালতে হাজির হয়ে শেষ পর্যন্ত কারাগারে গেছেন ভাগ্নে। আদালতের সামনে বিচারকের জেরার উত্তর দিয়েছেন তিনি, এমনকি জামিন আবেদনও করেছেন নিজের পরিচয় গোপন রেখে। কিন্তু কারাগারে পৌঁছানোর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ে ধরা পড়ে পুরো নাটকীয় ঘটনা।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার (২২ অক্টোবর) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে যাচাই-বাছাইয়ের সময় জানা যায়, যিনি কারাগারে পাঠানো হয়েছেন তিনি আসল আসামি নন, বরং মামার পক্ষে প্রক্সি দিতে এসেছেন ভাগ্নে শামীম আহম্মেদ (২৭)।
কারাগার কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, শামীম যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের জামশেদ আলীর ছেলে। তিনি তার ছোট মামা হাসানের হয়ে হাজিরা দিতে আদালতে যান। মামলার নথি অনুযায়ী, হাসান ২০১৪ সালের এক চাঁদাবাজি ও শ্লীলতাহানির মামলার ৫ নম্বর আসামি। মামলার অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় রাকিবুল ইসলামের বাড়িতে কয়েকজন প্রবেশ করে চাঁদা দাবি ও হামলার পাশাপাশি তার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায়।
বছরের পর বছর মামলার শুনানি চললেও, হাসান আদালতে উপস্থিত না হয়ে ভাগ্নে শামীমকে পাঠাতেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার আদালতে শুনানির সময় বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে ‘হাসান’ নামে আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এতে আসামির পরিবর্তে কারাগারে যান শামীম।
পরদিন সকালে কারাগারে প্রবেশের সময় জেরা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের পর কারারক্ষীদের সন্দেহ হয়। তথ্য যাচাইয়ে বেরিয়ে আসে আসল পরিচয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি লিখিতভাবে আদালতে জানায়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শামীম স্বীকার করেছেন, তিনি তার মামার হয়ে একাধিকবার হাজিরা দিয়েছেন। এ ঘটনায় নতুন মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশে এখন মামার বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।
তবে কারা সূত্রের দাবি, আদালতের বেঞ্চ সহকারী কিংবা আইনজীবীর সহযোগিতা ছাড়া এমন জালিয়াতি সম্ভব নয়। একাধিকবার প্রক্সি হাজিরা দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে।
আইনজীবী মহলের মতে,
এই ঘটনাটি বিচার ব্যবস্থার নজিরবিহীন ফাঁকফোকর তুলে ধরেছে। আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের সমন্বয় আরও শক্ত না হলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
বাস্তবের আদালতে এমন ‘আয়নাবাজি’ এখন তদন্তের মুখে, আর যশোরের এই ঘটনা দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
