রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে।
শনিবার (১৮ই অক্টোবর) বিকেল আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বিজিবি সাত ঘণ্টা ধরে যৌথভাবে কাজ করে। রোববার (১৯ই অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করতে কাজ চলছিল।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া থেকে আনা সাতটি শিপমেন্টে প্রায় ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কার্গো ভিলেজে রাখা ছিল, যা আজই খালাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরমাণু শক্তি কমিশনের এনওসি পেতে দেরি হওয়ায় পণ্যগুলো খালাস করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরো চালান পুড়ে যায়।
মমতা ট্রেডিং কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএফ কাজটি করছিল। প্রতিষ্ঠানের কাস্টমস কর্মকর্তা সরকার বিপ্লব হোসাইন বলেন,
ছয় দিন আগে রাশিয়া থেকে সরঞ্জামগুলো এসেছে। আজ খালাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগুনে সব শেষ।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, কৃষিপণ্য, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার ডকুমেন্ট, ই-কমার্স কোম্পানির পণ্য, এবং রপ্তানি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, ঘটনাটি শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মন্তব্য করেন,
কার্গো ভিলেজের ভেতরের লোক ও বাইরের চক্রের যোগসাজশে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা জরুরি। এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন দুরবস্থা অগ্রহণযোগ্য।
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও ব্যবসায়িক আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন,
বিশ্বমানের বিমানবন্দরে ফায়ার সেফটির এমন দুরবস্থা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে।
এদিকে পোশাক খাতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের মতে, বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তা জোনে এমন অগ্নিকাণ্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শিল্প খাতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখনো বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনায় আমদানি-রপ্তানির স্বাভাবিক গতি পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
