হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডসহ সম্প্রতি রাজধানী ও চট্টগ্রামে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে আগুন লাগার পরই মৌখিক নির্দেশে ‘কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন’ (কেপিআই) এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। জেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জানিয়েছেন,
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সারা বছরই নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনা থাকে। কেপিআই এলাকার নিরাপত্তায় পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে বঙ্গভবন, গণভবন, জাতীয় সংসদ, সচিবালয়, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মোট ৫৮৭টি স্থাপনাকে কেপিআই হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালের সংশোধিত নীতিমালায় নিয়মিত টহল, প্রতিবেদন পাঠানো, সিসিটিভি মনিটরিং, যানবাহন তল্লাশি ও লাগেজ স্ক্যানার ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন,
বিমানবন্দর বা ইপিজেডের মতো সংবেদনশীল স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলা অস্বাভাবিক বিষয়। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এর পেছনের কারণ ও সম্ভাব্য নাশকতার রহস্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও সমন্বয় ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করছে। তারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার (ইমার্জেন্সি রেসপন্স) সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অঘটন রোধ করা যায়।
