আজ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২১ বছর

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

আজ ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২১তম বার্ষিকী। ২০০৪ সালের এই দিনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ঘটে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ সন্ত্রাসী হামলা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিস্ফোরিত হয় একের পর এক গ্রেনেড। এতে আওয়ামী লীগের নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

ঘটনার পর থেকেই তদন্ত ও বিচার নিয়ে নানান জটিলতা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রথমদিকে দায়সারা তদন্তের অভিযোগ ওঠে। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় সিআইডি মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করে এবং ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার অধিকতর তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণা করে। তাতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরও ১১ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।

তবে ঘটনার ১৪ বছর পর বিচারিক আদালতের দেওয়া এই রায় গত বছর হাইকোর্ট বাতিল করে দেন। মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনসহ সব সাজা খারিজ হয়ে আসামিরা খালাস পান। এরপর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স, আপিল, জেল আপিল ও বিবিধ আবেদনের ওপর শুনানি হয় এবং গত বছরের ১ ডিসেম্বর রায় দেওয়া হয়। ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে এ ঘটনা এক জঘন্য মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড, যেখানে ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্বাধীন ও সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন, মামলাটির যথাযথ তদন্ত এখনো হয়নি এবং তা বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে করা জরুরি। এজন্য মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ১৭ জুলাই থেকে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপনার মাধ্যমে আপিলের শুনানি শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে ৩১ জুলাই, ১৯ আগস্ট এবং গতকালও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল ছিল চতুর্থ দিনের শুনানি, আজ বৃহস্পতিবারও শুনানি চলার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ শিশির মনির ও মোহিনুর রহমান।

২১ আগস্টের এই ভয়াবহ হামলা শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়, জাতির সম্মিলিত স্মৃতিতে রক্তাক্ত এক অধ্যায় হয়ে আছে। আদালতের চলমান শুনানি ও পুনঃতদন্তের দাবি এখনো ন্যায়বিচারের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *