নির্বাচনী প্রচারণায় জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না: ইসি

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত এবং ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর বিধি অনুযায়ী, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়—এমন কোনো সড়ক, মহাসড়ক, জনপথ বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসভা, পথসভা কিংবা কোনো ধরনের সমাবেশ করা যাবে না। প্রার্থী নিজে বা তার পক্ষে অন্য কেউ এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে পারবেন না।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থী সমান অধিকার ভোগ করবেন এবং প্রতিপক্ষের কোনো কর্মসূচিতে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না। প্রচারণা শুরুর আগে দল বা প্রার্থীকে কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে এবং সভা আয়োজনের জন্য দিন, সময় ও স্থান উল্লেখ করে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। একই স্থানে একাধিক কর্মসূচির আবেদন এলে কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করবে। সভার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হবে এবং একটি জনসভায় তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।

নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অপচনশীল সামগ্রী দিয়ে তৈরি ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না। ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া অন্যান্য প্রচার সামগ্রী সাদা-কালো রঙের হতে হবে এবং নির্ধারিত আকারের বাইরে কিছু ব্যবহার করা যাবে না। এসব সামগ্রীতে প্রার্থী নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না।

সরকারি স্থাপনা, দালান, দেয়াল, গাছ, বিদ্যুৎ বা টেলিফোনের খুঁটিতে কোনো ধরনের প্রচার সামগ্রী টাঙানো যাবে না। বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চ, রিকশা বা অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহনে প্রচারণা সামগ্রী ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ব্যানার বা ফেস্টুনের ক্ষতিসাধন বা বিকৃতি দণ্ডনীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে মিছিল, শোডাউন বা মশাল মিছিল করা যাবে না। দলীয় শীর্ষ নেতারা যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারলেও সেখান থেকে কোনো ধরনের প্রচার সামগ্রী প্রদর্শন বা বিতরণ করা যাবে না।

এছাড়া কোনো তোরণ নির্মাণ, দেয়াল লিখন, চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ক্যাম্প স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে প্রচারণা চালানো যাবে না। ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, উসকানিমূলক বক্তব্য, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে আঘাত এবং ভোটার প্রভাবিত করতে বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন উপলক্ষে কোনো নাগরিকের ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করা যাবে না বলেও বিধিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *