রাকসু নির্বাচন: উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। লিফলেট, হ্যান্ডবিল, মিছিল-মিটিংয়ে সরব পুরো ক্যাম্পাস। প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তবে নির্বাচনী মাঠে বাড়ছে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঝড়। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রাকসু নির্বাচন কমিশনের কাছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা দিয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’।

প্যানেলটির জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে প্রচারণা চালাচ্ছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এছাড়া তারা নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রচারণা, বহিরাগতদের সম্পৃক্ত করা ও অর্থনৈতিক প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নুর উদ্দিন আবির। তিনি বলেন,

এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমাদের জনপ্রিয়তা ও ইতিবাচক সাড়া দেখেই প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের পরিবহন মার্কেটে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘রাকসু ফর র‌্যাডিক্যাল চেঞ্জ’, ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা রাকসু নির্বাচন ঘিরে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

‘রাকসু ফর র‌্যাডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী মারুফ বলেন,

পোষ্যকোটা ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরোধ এখনো মীমাংসিত হয়নি। এতে নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, আমরা চাই নির্ধারিত সময়েই ভোট অনুষ্ঠিত হোক।

এদিকে, রাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ নজরুল ইসলাম বলেন,

কোনো প্রার্থী বা প্যানেল আচরণবিধি ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ১৬ অক্টোবরেই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে এবং ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন শিক্ষক-কর্মকর্তারা কর্মবিরতিতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এসব কারণে ২৫ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত রাকসু নির্বাচন স্থগিত করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৬ অক্টোবর।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *