জুলাই শহিদের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন সন্দ্বীপের ওসি সফিকুল

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম), প্রতিনিধি

3 Min Read
Highlights
  • সন্দ্বীপ ইউএনও প্রতি ওসির অভিমান, দ্বন্দ্ব
  • জুলাই শহীদ মাহিনকে অবজ্ঞা
  • জুলাই অভ্যুত্থান দিবস

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সন্দ্বীপে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে সকালে শহিদ মাহিনের কবরে শ্রদ্ধা জানান সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা। সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা উক্ত আয়োজনে উপস্থিত থাকলেও দেখা যায়নি সন্দ্বীপ থানা ওসি সফিকুল আলমকে।

গতকাল (৫ই আগষ্ট) ৯টায় এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইউএনও স্বয়ং সকাল ৮টায় ফোন করে আমন্ত্রণ জানান সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল আলম চৌধুরীকে। তবে ওসি সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন।

স্থানীয়দের চোখে এই ঘটনাটি গভীর বেদনার এবং অপমানজনক হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। শহিদ মাহিন, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান, তাকে শ্রদ্ধা জানাতে অনীহা প্রকাশ করাকে অনেকেই শহিদদের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, ধারা ৩৭(ক) অনুসারে সরকারি কর্মচারীর অবাধ্যতা, কর্তব্যে অবহেলা ও সরকারি নির্দেশ অমান্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব।

পুলিশ প্রবিধান, ১৯৪৩ অনুসারে, কোনো ওসি যদি দায়িত্বে গাফিলতি বা দুর্নীতি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা (Departmental Proceeding) নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে সংশ্লিষ্ট উচ্চতর পুলিশ অফিসারদের। একইভাবে, পুলিশ আইন, ১৮৬১ এর ধারা ৭ অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের অসদাচরণ বা কর্তব্যে গাফিলতির জন্য বরখাস্ত কিংবা শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।

উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

একজন শহিদের কবর জিয়ারত রাষ্ট্রীয় এবং মানবিক দায়িত্ব। ওসি সাহেবের এমন আচরণ আমাদের সবাইকে বিস্মিত করেছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সন্দ্বীপ নাগরিক ফোরামের এক সদস্য বলেন,

এই ধরনের পদক্ষেপ শহিদদের রক্তের প্রতি অসম্মান। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণ উদ্বেগজনক এবং অনভিপ্রেত।

ওসির এমন আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা ইনসাইড টিভিকে বলেন,

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ওসি সাহেবের স্বেচ্ছায় অনুপস্থিত থাকা এবং ফোনে ডাকা সত্ত্বেও যোগদান না করা একটি গুরুতর দায়িত্বহীনতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গ। উর্ধতন মহলকে এই বিষয়ে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ওসি সফিকুল আলম চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন উঠছে, “একজন জুলাই শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি আসলে কাকে খুশি করতে চাইলেন?”

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ড. মুহম্মদ ইউনুস জুলাই ঘোষণা পত্রে শহীদদের জাতীয় বীর হিসাবে উল্লেখ করেছেন, ফলে এই ধরনের কার্যকলাপ রাষ্ট্রীয় কর্তব্যের প্রতি চরম অবহেলা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ পরবর্তী ওসি সফিকুল আলমের ভূমিকা ও এর পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্টতা আনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয় জনতা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *