সন্দ্বীপে প্রার্থীতা বিতর্ক: কামাল পাশা ইস্যুতে কনক সারোয়ারের বিস্ফোরক প্রশ্ন

2 Min Read

সন্দ্বীপের সাবেক তিনবারের বিএনপি সংসদ সদস্য প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে তাঁর প্রার্থীতা নিয়ে সাংবাদিক কনক সারোয়ারের করা মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পক্ষে–বিপক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

কনক সারোয়ারের প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছেন সেই মোস্তফা কামাল পাশা—যিনি অতীতে প্রকাশ্যে বিএনপিকে “সন্ত্রাসী দল” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, আর এখন তিনিই বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী। মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার হুমকিও তিনি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে কামাল পাশার অতীত অবস্থান ও বর্তমান বাস্তবতার কারণে। বয়স ৯০-এর কোঠায় পৌঁছানো এই সাবেক এমপি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পেসমেকার বসিয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি নিজেই বলেছিলেন—আর রাজনীতি বা নির্বাচনে সক্রিয় থাকবেন না। দীর্ঘ সময় নিজেকে অসুস্থ, নিরপেক্ষ ও রাজনীতি থেকে দূরে থাকা একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

এই সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা দেখা করতে গেলে তিনি প্রকাশ্যেই বলতেন—রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন, আর তাঁর কাছে গেলে প্রশাসনের ঝামেলা বাড়বে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়েই তিনি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। এলাকায় ফিরেই কামাল পাশা ও তাঁর অনুসারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে—দখল, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের নানা ঘটনায় তাঁর অনুসারীদের নাম জড়াচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে কনক সারোয়ারের প্রশ্ন—
বিষয়টি কি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানেন?
নাকি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কামাল পাশার বিএনপি–বিদ্বেষ ও অতীত অবস্থান ঢেকে দিয়েছেন?

আজ মনোনয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের শেষ দিন। তাই সরাসরি আহ্বান জানানো হয়েছে—

জনাব তারেক রহমান, যা ভালো মনে করেন, আজই সিদ্ধান্ত নিন।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *