চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর) সারিরকাইত চোকাতলি উঠান বৈঠকে অভিযোগ ও আক্ষেপ করেছেন যে, বিএনপি করার কারণেই তাকে গরুর রশি বেঁধে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, “কোনো অন্যায় করিনি, শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে কারাগারের অন্ধকারে ঠাঁই নিয়েছি।”

সন্দ্বীপের এলাকাবাসী বৈঠকটিতে অংশ নিয়ে তাদের এলাকায় উন্নয়নের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, এই এলাকায় সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম একেবারেই কম। ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত এই প্রসঙ্গে বলেন,
বিএনপি-অধ্যুষিত এলাকায় সাধারণ মানুষ উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার। সারা সন্দ্বীপে যেখানে বিএনপি ভোট বেশি, সেখানে সড়ক-রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নেই।
দলের কর্মীদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন,
বিএনপি করার কারণে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি বাবা-মায়ের শেষ সময়ে পাশে থাকতে পারেননি। অনেকে হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছে, এবং আলেমদের টুপি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
২০১৮ সালের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ডিবির বিশেষ বাহিনী আমাকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়েছিল। আমাকে শিকলবদ্ধ করে নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে। বারবার বলা হচ্ছিল, তারেক রহমানের নির্দেশে নাশকতার কথা স্বীকার করলে আমার ওপর নির্যাতন থেমে যাবে।” দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির সঙ্গে থাকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি আন্দোলনে ছিলাম এবং পালিয়ে যাইনি।”
জিয়া পরিবারের প্রতি সরকারের বৈরিতা ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বেলায়েত বলেন, “জিয়া পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয়েছে, এবং তার বাসভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে।” তিনি আরো বলেন,
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানকেও অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।

বৈঠকের সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে বেলায়াতের প্রতি সমর্থন জানান, “দুর্দিনে যাকে পাই, সে আমাদের বেলায়াত ভাই।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কোনো মসজিদ বা মন্দির থেকে বিদ্যুতের বিল নেবে না এবং প্রথম বছরে ১ কোটি বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
এটি স্পষ্ট যে, বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের বক্তৃতা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং দলের ওপর চলা নির্যাতন এবং উন্নয়নের অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রোধের প্রতিফলন। রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে, তার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।
