গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে প্রাণ হারানো ফারিয়া তাসনিম জ্যোতির (৩২) নামে আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের নামে প্রতারণা চলছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তারা জানিয়েছে, জ্যোতির সন্তানদের সহযোগিতার জন্য কারও কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হবে না এবং যারা অনুদান চাইছে, তারা সবাই প্রতারক।
গত ২৭ জুলাই রাত সোয়া ৯টার দিকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার খোলা ম্যানহোলে পড়ে নিখোঁজ হন জ্যোতি। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর ২৯ জুলাই সকালে শালিকচুড়া (টেকপাড়া) বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন তুললেও, এটিকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যক্তি অনুদানের নামে প্রতারণা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
জ্যোতির বড় ভাই হাসানুজ্জামান লোটন বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি এই দুঃখজনক ঘটনাকে পুঁজি করে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন দোকান ও জনবহুল স্থানে গিয়ে বলছে, ‘এই মেয়েটির দুই সন্তান এতিম হয়ে গেছে, তাদের সাহায্য করুন।’ কিন্তু এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কোনো আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন নেই।”
তিনি জানান, জ্যোতির দুটি জমজ ছেলে রয়েছে। ২০১৮ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি একাই দুই সন্তানকে বড় করেছেন। ঢাকায় বসবাস করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতেন এবং প্রায় ৭০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। তিনি ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল নারী।
লোটন আরও বলেন, “আমাদের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। বাচ্চাদের জন্য আমরা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে জ্যোতির গহনা ও সম্পত্তির আয় জমা রেখেছি। বাসা ও দোকান ভাড়ার টাকা তাদের নামে জমা হবে। বাচ্চারা বড় হলে তারা এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। আমাদের কোনো ধরনের বাইরের অনুদান বা সহায়তার প্রয়োজন নেই।”
জ্যোতির ছোট ভাই আকরামুজ্জামান শোভন বলেন, “আমরা আমাদের বোনের সন্তানদের নিজেদের সন্তান হিসেবে বড় করবো। আমাদের পরিবারের দায়িত্বেই তারা মানুষ হবে। মা হারা এই শিশুদের জন্য দোয়া চাই, তবে কোনো আর্থিক সহায়তা নয়।”
পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে, কেউ যেন সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোথাও ভুয়া সহায়তার অনুরোধে বিভ্রান্ত হয়ে অর্থ প্রদান না করেন।
