বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলার আলোচিত আসামি মো. মুশফিক উদ্দীন টগর ফের অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। কারাগার থেকে বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি পাওয়ার পর আবারও তিনি অপরাধচক্রে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আজিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি রিভলবার, একটি ম্যাগাজিন, কাঠের পিস্তলের গ্রীপ, ১৫৫ রাউন্ড গুলি, শর্টগানের খালি কার্তুজ, দুটি মুখোশ ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টগর স্বীকার করেছে যে তিনি সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র এনে রাজধানীতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে সরবরাহ করতেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান চলছে।
টগরের অপরাধ ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত বুয়েট শিক্ষার্থী সনি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ সাজাভোগের পর ২০২০ সালের আগস্টে সরকারের বিশেষ বিবেচনায় তিনি মুক্তি পান। কিন্তু মুক্তির পর থেকে তিনি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে সক্রিয় হয়ে পড়েন।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া মুখোশগুলো নিজের পরিচয় গোপন রাখার জন্য ব্যবহার করতেন টগর। তবে এগুলো অন্য কোনো অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে—অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সাজা শেষে পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কতটা কার্যকর হচ্ছে। মুক্তির পর সমাজে ফিরিয়ে আনার বদলে তারা যদি আরও ভয়ঙ্কর অপরাধচক্রে যুক্ত হয়, তবে সেটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
