চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই অভিযুক্ত প্রতিবেশী মাহিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইনসাইড টিভির কাছে ভুক্তভোগী ও তার সৌদি প্রবাসী স্বামী ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
অভিযুক্ত মো. মাহিন উদ্দিন, পিতা মো. মনসুর, ঠিকানা সন্দ্বীপ পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ড, মন্নানটেক সাকিনস্থ জামাল হুজুরের বাড়ি। তার নামে ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সন্দ্বীপ থানায় অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে— মাহিন উদ্দিন বাদী রেশমা বেগমকে বিভিন্ন সময় যৌন হেনস্তা করতেন এবং ঘটনার দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এছাড়া ওইদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করলে তার ছেলেকে খুন করার হুমকিও দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
রেশমা বেগম ইনসাইড টিভিকে জানান,
২৫ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর ১২টার দিকে আমি বাড়িতে একা ছিলাম। সেই সময় মাহিন উদ্দিন হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। আমি আমার দাদী শাশুড়িকে ডাকার চেষ্টা করলে সে আমার মুখ চেপে ধরে।দীর্ঘ ধস্তাধস্তির পর আমি তার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হই। এরপর লোক জানাজানি হলে অভিযুক্ত দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ও সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ঢাকা পালিয়ে যায়।
অভিযুক্ত মাহিন উদ্দিন স্থানীয়ভাবে বিএনপির চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের মনোনীত প্রার্থী, আমেরিকান প্রবাসী মোস্তফা কামাল পাশা বাবুলের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, মাহিন উগ্র ও লম্পট প্রকৃতির ব্যক্তি, যিনি এর আগেও একই নারীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছিলেন এবং কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীর দাদী শাশুড়ী বলেন,
রেশমা ঘরে একা ছিলো, তারই সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত মাহিন অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে। রেশমা টিনের বেড়ায় শব্দ করে আমাকে ডাকার চেষ্টা করে। শব্দ শুনে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং দেখি মাহিন পালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্তের আনা সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান,
জায়গা-জমি নিয়ে দুই পরিবারের যে গণ্ডগোলের কথা অভিযুক্ত বলছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
বাদী রেশমার পাশের বাড়ির চাচী শাশুড়ীর ভাষ্যমতে,
ঘটনার পরপরই রেশমা আমার কাছে এসে সব খুলে বলে। আমি তাকে বলি পরিবারের সবাইকে দ্রুত অবগত করতে। এর আগেও মাহিনের দ্বারা সে হেনস্তার শিকার হয়েছিল, সেটাও সে আমাকে জানিয়েছিল।
অভিযুক্ত মাহিন উদ্দিন ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন,
আমার নামে গণমাধ্যমে যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। বাদীর পরিবারের সঙ্গে তিন বছর ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছে।এ বিষয়ে পৌরসভায় একটি মামলা ও থানায় একটি জিডি রয়েছে
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,
ভিকটিম নিজে থানায় এসে মাহিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার (২৫ অক্টোবর) রেশমা বেগম সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার দাবি করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যন্ত এলাকায় নারীরা অনেক সময় মানহানির ভয় পেয়ে নীরব থাকে। রেশমা বেগমের মতো নারীরা সামনে আসায় সমাজে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এখন সময়ের দাবি।
সন্দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা কিছুটা হলেও কমবে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
