জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। রবিবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এই বৈঠকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, যেসব আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের সন্তানরা জীবন দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য আজও পূরণ হয়নি। বরং তারা প্রশাসনিক অবহেলা, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। শহীদ পরিবারের পক্ষে অংশ নেন ফারহান ফাইয়াজ, মুগ্ধ, ইয়ামিন, জাবির ইব্রাহিম, শাহরিয়ার, রিয়ান, আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান ও মোন্তাসিরের স্বজনরা।
বৈঠকে শহীদ পরিবারবর্গ জানান, তাদের সন্তানদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর জন্য আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পাশাপাশি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তাও দাবি করেন তারা।
ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,
জুলাই ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছে, তবে শহীদ পরিবারবর্গ যে এখনো প্রত্যাশিত সহায়তা পাচ্ছেন না, তা আমাদের জানা ছিল না।
কমিশন আশ্বস্ত করেছে, উত্থাপিত সব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৈঠকের শেষদিকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কমিশন তাদের সেই সাক্ষাৎ সহজতর করার আশ্বাস দেয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই বৈঠককে অনেকেই দেখছেন শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে।
