চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল বিএনপির অন্তর্দলীয় কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার ও খাল দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত রিফাতের (১৮) মৃত্যু। মৃত যুবক উক্ত ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান জামশেদ মেম্বারের ছেলে।
গত সোমবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় খাল দখল ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মগধরা ইউনিয়নের পাশের ইউনিয়ন সারিকাতের স্থানীয় বিএনপি নেতা রাজু বাহিনী ও মগধরা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কাউছার বাহিনীর মধ্যে বাকবিতন্ডায় শুরু হয়। বাকবিতন্ডা আরো গুরুতর হলে রিফাতের সঙ্গে আলমগীর ও দিদারের মধ্যেকার দুই পক্ষের সংঘর্ষ তৈরি হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রিফাতের মাথায় রামদার কোপ বসিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আহত অবস্থায় বুধবার (২১ মে) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
উক্ত ঘটনা সম্পর্কে মৃত রিফাতের বাবা জামশেদ মেম্বার বলেন, আমার ছেলে আমাকে শেষ বার বলেছিল, আব্বা আমি আর বাঁচবো না। আমাকে আপনারা নিয়ে যান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, আমার ছেলে ভাত খাওয়ার পর বেড়ীবাঁধে হাওয়া খেতে যায়। সেখান থেকে রাজু বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে বেধম মারধর করে। চার ঘন্টা জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধারের পর স্থানীয় উপজেলা কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেলের অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সতের বছর আমি বিএনপির রাজনীতি করার পরও আমার সন্তানের সাথে যা ঘটেছ তা মেনে নেওয়ার মত নয়। আমার ছেলে হত্যার সাথে জড়িত প্রত্যেককে সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি।
এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন ইনসাইড টিভিকে বলেন, আমি শুনেছি স্থানীয় বিএনপি লোকজন এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে যুক্ত আছে। পরবর্তী তদন্তের পর আসল খুনি বের হয়ে আসবে। অতি দ্রুত তাদের বিচারের সম্মুখীন করা হউক। এই বিচার যদি না হয় প্রতিদিন একের পর এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। আমি সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলমান আছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি। ফলে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে। মামলা পরবর্তী অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ, সন্দ্বীপে ৫ই আগষ্টের পর এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মী কয়েক দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এই পর্যন্ত সংঘটিত সংঘর্ষে তিন জন মৃত্যু বরণ করে। আহতের সংখ্যাও বেশ একটা উল্লেখযোগ্য।
