নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা ও সরকারদলীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে গতকাল (২১ মে) সন্ধ্যায় যমুনা ভবনের সামনে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা—আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম—বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে সক্রিয়ভাবে মদদ দিচ্ছেন। এ সময় তিনি উক্ত দুই উপদেষ্টার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।ইশরাক হোসেন বলেন,
“নতুন একটি দল নিয়ে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু সরকারের দুই জন উপদেষ্টা মদদ দিচ্ছেন, যেন বিএনপি নির্বাচনে আসতে না পারে, নির্বাচন করতে না পারে। এ অবস্থায় আসিফ মাহমুদকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আরেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকেও পদত্যাগ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“তারা পদত্যাগ করে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করুক। এই সরকারের মধ্যে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না।”
এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না নেওয়ার যে জটিলতা ছিল, তা আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। হাইকোর্টে দায়ের করা রিট খারিজ হয়ে যাওয়ায় ইশরাক হোসেনের শপথ নিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। আদালত তাকে ২৬ মে’র মধ্যে শপথগ্রহণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।তবে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ইশরাক হোসেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি লিখেন,
“আন্দোলনকারী ভাইদের বলব, এইসব মূলা দিয়ে গাধা বশ করা যায়, আমাদের না।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাদের পদত্যাগ না আসা পর্যন্ত লড়াই চলবে।”
এসময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্দোলন শুধু অব্যাহতই থাকবে না, বরং আরও বিস্তৃত করা হবে।নির্বাচন কমিশনকে জিম্মি করার অভিযোগও তোলেন ইশরাক হোসেন। তার ভাষ্য,
“নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, তাই এটার রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে যদি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে।সবশেষে তিনি বলেন,
“আরেকটা স্বৈরাচারের জন্ম এই বাংলার মাটিতে হতে দেওয়া যাবে না। যদি হয়, তবে যেকোনো সময় হাসিনার পরিনতির মতো উচিত জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।”
