আজ মঙ্গলবার (৩রা জুন) নিজের গুম হওয়ার অভিযোগ জমা দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শেখ হাসিনা সহ আরও সাত জনের নামে নিজের গুম হওয়ার পেছনে দায়ী হওয়ার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
সরকারি দায়িত্বে থেকে সংঘটিত সব ধরনের অপরাধের বিচার হবে—এই মর্মে সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী, হাসিনা আহমেদ। ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকেও সরাসরি অভিযোগ ওঠে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন।
সে সময় সালাহউদ্দিন ছিলেন বিএনপির একজন মুখপাত্র এবং দলের মুখ্য রাজনীতিকদের অন্যতম। তাঁর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং পরে ভারতের শিলং শহরে অজ্ঞাত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া—সবকিছুই দেশজুড়ে চরম আলোড়ন তোলে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েক মাস পর ভারতের মেঘালয়ে পাওয়া যায় তাঁকে। তিনি দাবি করেন, অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি চোখ বেঁধে তাঁকে সীমান্ত পার করে সেখানে ফেলে রেখে যায়। এরপর শুরু হয় আইনি প্রক্রিয়া, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই।
সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়া কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘গুম’ সংস্কৃতির এক ভয়াবহ প্রতিফলন।
বর্তমান সরকারের ঘোষণার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে—সেই প্রতিশ্রুত বিচার কি সত্যিই বাস্তবে রূপ নেবে? এক দশক পরও যদি একটি ঘটনায় কোনো দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচার না করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার কীভাবে সম্ভব?
সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের ভিত্তি ন্যায়বিচার, আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
