একীভূত ৫ ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায়

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখনো চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেওয়ার চার মাস পার হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ব্যালেন্সশিটের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সবল দেখিয়ে পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের ভারে প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর শেয়ার এখনো পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে। অডিট ফার্মগুলোর দেওয়া অসত্য তথ্যে তৈরি আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে লাভজনক দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

ইউনিয়ন ব্যাংকের বিনিয়োগকারী মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন,

বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটের পরই ব্যাংকগুলো আইপিওতে এসেছে। অনুমোদন যেহেতু তারা দিয়েছে, দায়ও তাদেরই।

বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসিন খান বলেন,

এটার দায় বিনিয়োগকারীদের নয়। ভালো কোম্পানি দেখেই লিস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাই দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

আইপিও অনুমোদনের সময় জমা দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, অডিট ফার্মগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিএসইসির পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন,

কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে, এফআরসিও নিচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকও ব্যবস্থা নেবে।

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাঁচ দফা সুপারিশসহ চিঠি দেয় বিএসইসি। বিষয়টি সরকারকেও জানানো হলেও চার মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন,

ফাইন্যানশিয়াল স্টেটমেন্ট ট্রাই-পার্টি মিটিংয়ের মাধ্যমে এডপ্ট করা হয়েছে। রেগুলেটররাও বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাই দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যেসব বিনিয়োগকারী কোনোভাবেই ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য দায়ী নন, তাদের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টক মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের হাতে কোম্পানির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন,

যারা বোর্ডে বসে কন্ট্রোলিং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ লুটপাটের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এই বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ সরকার বিবেচনা করতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের বিনিয়োগ প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হলে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন,

দুর্নীতিকে মাটিতে পুঁতে না দিলে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরবে না।

এদিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ৭৫ লাখ আমানতকারীকে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *