৬ এনবিএফআই অবসায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন, ৩টিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও বিপুল খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়া ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাত পুনর্গঠনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‘ব্যাংক রেজেল্যুশন অর্ডিন্যান্স–২০২৫’-এর আওতায় সমস্যাগ্রস্ত ৯টি এনবিএফআইয়ের মধ্যে ৬টিকে অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড। বাকি ৩টি প্রতিষ্ঠানকে সংকট কাটিয়ে উঠতে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বোর্ডের অনুমোদনের ফলে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা, লিকুইডেটর নিয়োগ, সম্পদ বিক্রি এবং প্রাপ্ত অর্থ পাওনাদারদের মধ্যে বণ্টনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই ৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার আমানত আটকে রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ গ্রাহকের আমানত ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা এবং ব্যাংক ও করপোরেট আমানত ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি আমানত আটকে রয়েছে—
পিপলস লিজিং: ১,৪০৫ কোটি টাকা
আভিভা ফাইন্যান্স: ৮০৯ কোটি টাকা
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং: ৬৪৫ কোটি টাকা
প্রাইম ফাইন্যান্স: ৩২৮ কোটি টাকা
এফএএস ফাইন্যান্স: ১০৫ কোটি টাকা
তথ্য অনুযায়ী, পুরো এনবিএফআই খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৫২ শতাংশই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়ে। গত বছরের শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা।

এছাড়া আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বর্তমানে ঋণাত্মক ৯৫ টাকা, যা ইঙ্গিত করে—সরকারি হস্তক্ষেপ ও সম্পদ বিক্রি ছাড়া গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ কার্যত অসম্ভব।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর ৯টি এনবিএফআই অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আজকের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত আইনি রূপ পেল। এর ফলে আটকে থাকা আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *