এনবিআরের চার শীর্ষ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চলমান অস্থিরতা এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বুধবার সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ একযোগে চার শীর্ষ কর কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন—

ড. মো. আবদুর রউফ (সদস্য, এনবিআর)

হোসেন আহমেদ (সদস্য, এনবিআর)

মো. আলমগীর হোসেন (সদস্য, এনবিআর)

মো. শাব্বির আহমদ (কর কমিশনার, বরিশাল কর অঞ্চল)

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ চার কর্মকর্তার সরকারি চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ভাষায়:

“যেহেতু সরকার জনস্বার্থে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে, সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হলো।”

 

এর আগে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বন্ধ রাখায় চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. জাকির হোসেন-কে মঙ্গলবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এনবিআরের আন্দোলন শুরু হয় প্রায় দেড় মাস আগে। মূল দাবি ছিল—

এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

কাঠামোগত সংস্কার

কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দাবি পূরণ

এই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই শনিবার থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের অচলাবস্থা দেখা দেয়। তবে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে রোববার রাতে বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা শাটডাউন প্রত্যাহার করে নেন।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত রোববার জানিয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে কর ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে এনবিআরের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ছয় কর্মকর্তার মধ্যে কয়েকজন আন্দোলনেরও অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন।

এনবিআরের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের গভীরে আছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, স্বার্থের সংঘাত এবং দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এনবিআর-এর আন্দোলন ও এর পরবর্তী সরকারী পদক্ষেপ শুধু রাজস্ব প্রশাসনের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য বড় এক সতর্ক সংকেত।

এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন—

“এই পদক্ষেপ একদিক দিয়ে বার্তা দিচ্ছে যে সরকার রাজস্ব প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হতে চাইছে। অন্যদিকে, এটি প্রমাণ করছে যে এনবিআর-এর ভেতরে গুরুতর অসন্তোষ ও বিভাজন রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে রাজস্ব আদায়েই বড় প্রভাব পড়তে পারে।”

 

অন্যদিকে, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, সরকারের পদক্ষেপ ‘প্রতিশোধমূলক’। তাদের বক্তব্য, তাদের legitimate দাবি দমন করতে এবং এনবিআরের স্বাধীন অবস্থান খর্ব করতেই এই অবসর ও বরখাস্তের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার জনস্বার্থ রক্ষাই মূল বিবেচনায় রেখেছে।

এনবিআরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেশের রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আরও কতটা নাড়িয়ে দেবে, তা নির্ভর করছে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং চলমান দুর্নীতি তদন্তের ফলাফলের ওপর।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *