বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ ছড়াচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদকে কেন্দ্র করে। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, ঢাকার পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের ঘোষণা দিয়েছেন ৩ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচির। দাবি—গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এবং উচ্চকক্ষে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু করা।
ঘোষিত কর্মসূচি:
– **১৮ সেপ্টেম্বর:** রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল
– **১৯ সেপ্টেম্বর:** দেশের সকল মহানগরে কর্মসূচি
– **২৬ সেপ্টেম্বর:** জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ
মূল দাবি ছয়টি:
1. গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি
2. উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন
3. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গান-নাচের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল
4. জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন
5. উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতির বাস্তবায়ন
6. জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম বন্ধ
ড. কাদের স্পষ্ট করেছেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিএনপিকে চাপে রাখা নয়, বরং “আইনি ভিত্তি” নিশ্চিত করে জাতীয় সনদের দ্রুত ঘোষণা দাবি করা।
এই কর্মসূচির আগে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও পিআর পদ্ধতি ও জাতীয় সনদকে ঘিরে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে স্পষ্ট, জুলাই জাতীয় সনদকে কেন্দ্র করে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে একধরনের সমন্বিত চাপ তৈরি হচ্ছে।
এই ধারাবাহিক কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক দাবির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং নির্বাচনী কাঠামোতে পরিবর্তনের দাবিতে ইসলামী দলগুলোর নতুন কৌশল। পিআর পদ্ধতির দাবি এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রশ্নে তারা একত্রিত হলেও, দলীয় অবস্থান ও ভাষ্য আলাদা। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে রাজনৈতিক মাঠে নতুন সমীকরণ দেখা যেতে পারে।
