জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা জুবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। টিউশনির ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষার পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমান এবং তার দুই বন্ধু—ফারদিন আহমেদ ও আইলান মিলে জুবায়েদকে খুন করে। প্রেম-অভিমান আর প্রতিশোধের জটিল টানাপোড়েনই এই হত্যার মূল কারণ বলে জানিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা।
তদন্তে জানা গেছে, বর্ষা ও মাহিরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়েদের সঙ্গে পরিচয়ের পর বর্ষা নতুন সম্পর্কে জড়ান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মাহির। ২৬ সেপ্টেম্বর বর্ষার জীবনে জুবায়েদের উপস্থিতির কথা জেনে তিনি হত্যার পরিকল্পনা শুরু করেন।
একই সময়ে, মাহিরকে ফিরে পেতে বর্ষাও এই নৃশংস পরিকল্পনায় যুক্ত হন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার বিকেলে টিউশনে যাওয়ার পথে জুবায়েদের সঙ্গে দেখা হয় মাহিরের। কিছুক্ষণের কথাকাটাকাটির পরই ছুরিকাঘাতে নিহত হন জুবায়েদ।
ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। নিহত জুবায়েদ ছিলেন কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই—এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার ফল। তাদের মতে, ঘটনাটি অনেকটা বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যার মতোই, যেখানে ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্ব প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এক তরুণের।
বিশ্লেষকদের মতে, ভালোবাসার নামে অন্ধ প্রতিশোধের এই সংস্কৃতি সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ বার্তা। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রেমের জটিল সম্পর্ক, আবেগের অস্থিরতা আর প্রতিশোধের আগুনে আবারও নিভে গেল এক সম্ভাবনাময় তরুণের জীবন।
