রাজধানীর সোবহানবাগের একটি বাসা থেকে গত শনিবার (১৮ই অক্টোবর) সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া নারী সংবাদকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে তার পরিবার। তবে পরিবার জানিয়েছে, তারা শিগগিরই আরেকটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মারা যাওয়া এই তরুণী অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিমে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যারা লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, তাদের মধ্যেও তিনি একজন ছিলেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলতাফ শাহনেওয়াজকে কিছু সময়ের জন্য বার্তাকক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাউল হক বলেন, গত রোববার রাতে নিহত নারী সংবাদকর্মীর ভাই থানায় এসে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্বিতীয় একটি মামলা শিগগিরই করা হবে। নিহতের আরেক ভাই সঞ্জয় অধিকারী বলেন,
আমরা প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছি। এখন পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে আরেকটি মামলা করব। বোনের মৃত্যুর ঘটনার পেছনের কারণ আমরা জানতে চাই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে, যৌন নিপীড়নের অভিযুক্ত আলতাফ শাহনেওয়াজকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে বরং তাকে পুনর্বহাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ঢাকা স্ট্রিম কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই তথ্য পুরোপুরি সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩ জুলাই অভিযোগ জমা পড়ার পর আলতাফ শাহনেওয়াজকে বার্তাকক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার কিছু ক্ষেত্রে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রমাণ মেলে, ফলে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে, ওই নারী সংবাদকর্মীর মৃত্যুর সঙ্গে আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রবিবার এক বিবৃতিতে বলেছে,
কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
একইভাবে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ তাদের বিবৃতিতে জানায়, কর্মক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
নিহত নারী সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা চান সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হোক। এদিকে সাংবাদিক মহলেও এই ঘটনাটি গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখছেন, একজন তরুণী সাংবাদিকের মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন।
