ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবারের মতো অনুমোদন দিল ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

2 Min Read

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে—এতে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘুরল। জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের নয় মাস পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি অস্ত্র সরবরাহের নথিতে স্বাক্ষরও করেছেন। হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই ইউক্রেনে দুটি বড় চালান পাঠানো হবে, প্রতিটি চালানের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে সরাসরি সহায়তা হিসেবে উপস্থাপন করছে না। কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্ররাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনে ইউক্রেনে পাঠাবে এবং খরচও বহন করবে। নতুন একটি চুক্তি—‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ার লিস্ট (পার্ল)’—এর আওতায় ইউক্রেনে মোট ১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার প্রথম চালান এখন প্রস্তুত।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। কারণ শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, তার প্রশাসন আর ইউক্রেনে সামরিক সহায়তার অনুমোদন দেবে না এবং যুদ্ধ থামানোই হবে অগ্রাধিকার। এজন্য তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছিলেন। কিন্তু গত নয় মাসে যুদ্ধাবসান ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন না থাকলেও এর মধ্যে ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র পৌঁছেছে—সেগুলো ছিল বাইডেন প্রশাসনের আগে থেকে অনুমোদিত চালান। এবার প্রথমবারের মতো ট্রাম্প নিজে অনুমোদন দিলেন। কী ধরনের অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে তা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চালানের মধ্যে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রয়েছে, যা রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে ইউক্রেনের জন্য জরুরি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের দেওয়া অর্ডারের তালিকা যাচাই করা হচ্ছে এবং শুধু সেই অস্ত্রই পাঠানো হবে, যেগুলো মার্কিন নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সহায়তা না দিলেও, ইউরোপের মিত্রদের মাধ্যমে অস্ত্র বিক্রি করে ইউক্রেনের যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ খুলে দিয়েছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *