জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন: গাজা ইস্যুতে অভূতপূর্ব সংহতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

2 Min Read

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুরু হতেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষে ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ৫০টিরও বেশি দেশের শতাধিক কূটনীতিক আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

শুরু থেকেই এই ওয়াকআউট ছিল পরিকল্পিত ও সমন্বিত। শুধু আরব বা মুসলিম রাষ্ট্র নয়, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বেশ কিছু দেশও এ পদক্ষেপে যোগ দেয়। কূটনীতিকদের বড় অংশ চুপচাপ কক্ষ ত্যাগ করলেও, যারা আসনে রয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যেও অনেকে হাততালি দিয়ে প্রতিবাদ জানানোর দৃশ্য ধরা পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সভাকক্ষে বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের সংরক্ষিত আসন ফাঁকা। যদিও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো যে, ফিলিস্তিন প্রশ্নে বৈশ্বিক সংহতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন। হামাসের শীর্ষ নেতারা একে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, নেতানিয়াহুর বক্তৃতা শুরুর আগেই কূটনীতিকরা উঠে দাঁড়ানো প্রমাণ করে যে বিশ্ব আর ইসরাইলের গণহত্যামূলক নীতি মেনে নিচ্ছে না।

এক বিবৃতিতে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘে এই দৃশ্য গোটা বিশ্বে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে—যুদ্ধাপরাধকে বৈধতা দেওয়ার সব প্রচেষ্টা ভেস্তে যাবে।

জাতিসংঘের ইতিহাসে এমন বর্জনের ঘটনা বিরল। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এটি শুধু একটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ নয়, বরং ইসরাইলি আগ্রাসন ও ফিলিস্তিনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *