তুরস্কে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোরে স্পিন বোলদাক এলাকায় দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় চার নারীসহ অন্তত পাঁচ আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
কান্দাহার প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসন জানায়, আলোচনার সময়ই পাকিস্তানি বাহিনী প্রথম গুলি চালায়। আফগান বাহিনী আলোচনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে পাল্টা গুলি চালায়নি। তবে পাকিস্তান দাবি করছে, সংঘাতের সূত্রপাত আফগানিস্তান থেকেই—তাদের সেনারা কেবল আত্মরক্ষার্থে জবাব দিয়েছে।
গত মাসেও একই সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে বহু সেনা ও সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান। এরপর কাতারে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এবার তুরস্কে সেই চুক্তি চূড়ান্ত করার বৈঠক চলাকালীনই আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটলো।
আঙ্কারা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উভয় পক্ষের সঙ্গে একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনায় অগ্রগতি থেমে যাচ্ছে বারবার।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবানকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে মিলে সীমান্ত অস্থিতিশীল করছে। অপরদিকে আফগান সরকারের দাবি, ইসলামাবাদ বারবার তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে, যা সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত অক্টোবরের সংঘাতে আফগানিস্তানে অন্তত ৫০ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪০০’র বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে পাকিস্তানও জানিয়েছে, তাদের ২৩ সেনা প্রাণ হারিয়েছে। সীমান্তের বাণিজ্যপথ এখনো বন্ধ থাকায় দুই দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে।
তুরস্কের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। দুই দেশের সেনাদের বন্দুকের নলের সামনে শান্তির কণ্ঠস্বর যেন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
