চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী দুইজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। তারা দুজনই নগরীর আলোচিত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মাত্র ৩৫ ঘণ্টার মধ্যে চান্দগাঁওয়ের আজীমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনই সরোয়ার হত্যামামলার আট আসামির মধ্যে অন্যতম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু না বললেও তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, সরোয়ার বাবলা ও ছোট সাজ্জাদ গ্রুপের মধ্যে অপরাধ জগতের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, একই দিনে রাউজানের বাগোয়ান এলাকায় গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ইশতিয়াক চৌধুরী অভি, যিনি ওই সংঘর্ষের মূল পরিকল্পনাকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, বায়জিদ এলাকায় এক রিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আরও একজনকে রউফাবাদ থেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগ চলাকালে সরোয়ার বাবলাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। একই রাতে রাউজান ও পরদিন চালিতাতলীতে ধারাবাহিকভাবে আরও দুটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা নগরজুড়ে সন্ত্রাসী সংঘর্ষের ভয়াবহ পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরোয়ার হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী গোলাগুলির ঘটনাগুলো পরস্পর সম্পর্কিত হতে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
