কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারচক্রের কবল থেকে নারী-শিশুসহ ৩৮ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ দল। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ১৮ জন নারী, ১২ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মানব পাচারের সাথে জড়িত দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, পাচারকারীরা এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। এর আগে তাদের পাহাড়ি আস্তানায় বন্দি করে মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতন চালানো হচ্ছিল।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, পাচারকারীরা তাদের কাজের সুযোগ দেখিয়ে টোপ দিতো। পরে অপহরণের মতো করে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে বন্দি করে রাখে। পরিবার থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
শুধু গত দুই সপ্তাহেই টেকনাফের পাহাড়ি জনপদ থেকে একাধিক দফায় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজন দালাল ও মানব পাচারকারী ধরা পড়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সীমান্তবর্তী এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় পাচারচক্রকে চিহ্নিত করে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এ ধরনের মানব পাচার শুধু সামাজিক সংকট নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। টেকনাফ ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি শক্তিশালী নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
