প্রায় ১২ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর অবশেষে বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ফিরে পেয়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে পেজটির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগ।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ভোরে পেজটি হ্যাক হওয়ার পর থেকেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চলছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পেজের নিয়ন্ত্রণ ফেরত আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকের অফিসিয়াল পেজ ব্যবহার করতে পারছেন।
এর আগে হ্যাকার গ্রুপ ‘এমএস ৪৭০ এক্স’ পেজটি দখল করে প্রোফাইল ও কভার ছবি পরিবর্তন করে নিজেদের লোগো যুক্ত করে। একই সঙ্গে তারা একটি পোস্টে চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহালের দাবি তোলে। যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক ছাঁটাই কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যেই চার শতাধিক কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন এবং প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বহীন) করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজ হ্যাকড হওয়াকে শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং সাংগঠনিক অসন্তোষেরও ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেকোনো ধরনের অনলাইন সংকট কেবল ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য নয়, গ্রাহকদের আস্থার ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা হতে পারে। ইসলামী ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি গুরুতর।
ব্যাংকের অভ্যন্তরে চলমান সংকট, কর্মকর্তা ছাঁটাই এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের আক্রমণ ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও স্থিতিশীলতায় কতটা প্রভাব ফেলবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
