সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে পরিচালিত এসব অভিযানে আটক হয়েছে শতাধিক চোরাচালানকারী ও বিদেশি নাগরিক, উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদও।
বিজিবির মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৬ কেজি ৩৫৬ গ্রাম স্বর্ণ, ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম রুপা, ৯ হাজার ২৪৮টি শাড়ি, ১৩ হাজার ৫৫৮টি থ্রিপিস ও চাদর, ১১ হাজারের বেশি তৈরি পোশাক, তিন লাখের বেশি কসমেটিক্স সামগ্রী এবং বিপুল পরিমাণ আতশবাজি, কাঠ, চা পাতা, কয়লা, পাথর, বালু, সুতা, মোবাইল, চশমা, যানবাহনের যন্ত্রাংশসহ নানা পণ্য।
তালিকায় আরও রয়েছে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, ৭৩ হাজারের বেশি ভারতীয় রুপি, এক হাজার ৫২৫টি গবাদিপশু, ১৯টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ১২টি পিকআপ, ১৩০টি নৌকা এবং ৬৬টি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহনযান।
অভিযানকালে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি দেশীয় পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১০০ রাউন্ড গুলি এবং আরও ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র।
বিজিবি জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪ কেজির বেশি হেরোইন, ১২ হাজার বোতল বিদেশি মদ, এক হাজার ক্যান বিয়ার, এক টন গাঁজা এবং লাখ লাখ নেশা ট্যাবলেট ও সিরাপ।
চোরাচালান ও মাদক পাচারে জড়িত অভিযোগে ১৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ১ হাজার ১৯৭ জন বাংলাদেশি ও ৯ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ৮০৫ জন মায়ানমার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিজিবি বলছে, সীমান্তে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির কারণে চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে সাফল্য আরও বাড়ছে। সংস্থাটি সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান দমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
