কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযানে এক কোটি ৭৪ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)। সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে বিজিবির এই অভিযানকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গভীর রাতে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপি’র আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়। অভিযানে কামারখাঁ জোড়া ব্রিজ এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৯০১ পিস ভারতীয় শাড়ি, ১,৪৯৭ পিস বিভিন্ন প্রকার মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে এবং একটি মিনি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক মূল্যায়নে এসব পণ্যের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা। জব্দকৃত মালামাল পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত অঞ্চলে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করায় অবৈধ পণ্যের প্রবাহ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিবিরবাজার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশ করে আসছিল। বিশেষ করে শাড়ি, ইলেকট্রনিক পণ্য ও মোবাইল উপকরণের ব্যবসায় জড়িত একাধিক সিন্ডিকেট এ অঞ্চলে সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান,
রাতের অন্ধকারে ছোট ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানে করে এসব পণ্য সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয়। কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও দালালের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় চালান ঢোকানো সম্ভব নয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ হওয়া পণ্যের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার এবং পাচারচক্রের মূল হোতাদের ধরতে বিশেষ নজরদারি ও গোপন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানটি শুধু একটি সফল চোরাচালানবিরোধী অভিযান নয়—এটি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা ও গোয়েন্দা তৎপরতার প্রমাণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির এই ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতে মাদক ও অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
